|

Advertisement
×

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ৪৩ বার পঠিত

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের নির্দেশ স্থগিত

গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পাঁচ করবর্ষের বকেয়া কর আদায়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। পুনর্মূল্যায়নের পর প্রতিষ্ঠানটির কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবি করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।

রোববার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আবেদন দুটি শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।

২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের কর নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ কল্যাণ ও কর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। সংশ্লিষ্ট করবর্ষগুলো হলো ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭।

গত ১০ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত দুটি রিট খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে ১২ অক্টোবর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বকেয়া কর আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একটি রায়ে দ্রুত কর আদায়ের পদক্ষেপ নিতে এবং অন্যটিতে করসংক্রান্ত নোটিশ জারির মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল।

হাইকোর্টের ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি লিভ টু আপিল করে। রোববার শুনানি শেষে চেম্বার আদালত নির্দেশনা দুটি স্থগিত করেন। ফলে আপিল বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ওই নির্দেশনার ভিত্তিতে কর আদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীরা।

গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে আদালতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান।

কর নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত:
গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। ওই বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থের প্রকৃতি নিয়ে কর বিরোধের সূত্রপাত। গ্রামীণ কল্যাণের দাবি, অর্থটি শেয়ার থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের আয়। অন্যদিকে কর কর্তৃপক্ষের মতে, এটি লভ্যাংশ নয়; বরং বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়, যা ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

পাঁচ করবর্ষের কর দাবি নিয়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এক রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করেন এবং নির্দিষ্ট শর্তে আপিলের সুযোগ দেন।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আপিল বিভাগে আবেদন করে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য হাইকোর্টে পাঠান। পরবর্তী সময়ে মামলাগুলোর শুনানি ও বিচারিক বেঞ্চ নিয়ে কয়েক দফা পরিবর্তনের পর চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।

এখন হাইকোর্টের নির্দেশনা স্থগিত থাকলেও কর বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী ১৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে লিভ টু আপিলের শুনানিতে পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।

গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড: মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০৭:১২ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com